গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ! পাক দখলদারিতে নির্বাচনের কড়া নিন্দা দিল্লির

অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে নির্বাচনের আয়োজনের মাধ্যমে পাকিস্তানের নতুন করে উসকানিমূলক পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। আগামী ৭ জুন অর্থাৎ রবিবার ওই এলাকায় নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে পাক সরকার। ভারতের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান বেআইনিভাবে ও বলপূর্বক এই ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।
অবৈধ দখলদারিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেআইনিভাবে দখল করা ওই অঞ্চলে দশকের পর দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক শোষণ চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের স্বাধীনতায় ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই অবৈধ দখলকৃত এলাকায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বা নির্বাচনের আয়োজন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ভারত সরকার পাকিস্তানকে অবিলম্বে এই ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তাদের দখলদারিত্ব গুটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের প্রভাবের অভিযোগ
এদিকে, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উঠেছে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে রাখতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই নির্বাচনে এমন কিছু রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের নিজস্ব সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ থাকা ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (টিএলপি)-এর মতো সংগঠনের দৌরাত্ম্য এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা
গিলগিট-বালটিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি, তখন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে পুনরায় বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করে পাকিস্তান। এর পাল্টা জবাবে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাকিস্তান নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রসংঘের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে এটিই পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, কাশ্মীর ও এর সংলগ্ন অঞ্চলগুলো নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসার অবকাশ নেই।