আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা কিন্তু ফল শূন্য, বলিউডের মেগা ফ্লপের নেপথ্যে কি তারকা রাজনীতি?

২০১২ সালের বহুল আলোচিত স্পাই-থ্রিলার ছবি ‘এজেন্ট বিনোদ’ মুক্তির আগে দর্শকদের মনে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছিল। বলিউড তারকা সইফ আলি খান এবং প্রশংসিত পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনের যুগলবন্দি রূপালি পর্দায় নতুন চমক আনবে, এমনটাই আশা ছিল সবার। তবে মুক্তির পর বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি, মেলে সমালোচকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও। দীর্ঘ সময় পর এই মেগা ফ্লপের আসল কারণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ছবির অন্যতম অভিনেতা ললিত পারিমু।
তারকাদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ললিত পারিমু দাবি করেন, ছবিটির ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মূল দুই তারকা সইফ আলি খান ও করিনা কাপুরের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ। তাঁর মতে, সিনেমা মূলত পরিচালকের মাধ্যম এবং সেখানে পরিচালকের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে বারবার তারকা অভিনেতাদের পক্ষ থেকে নানা নির্দেশ আসায় নির্মাণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিচালকের মূল ভাবনা মার খায় এবং পুরো বিষয়টি একটি বিশৃঙ্খল রূপ নেয়। লেখক ও পরিচালনা দল স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পাওয়াতেই ছবিটি খেই হারিয়ে ফেলে।
গল্পের চেয়ে দৃশ্যায়নে জোর এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব
অন্য এক প্রসঙ্গে পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনও ছবির ব্যর্থতা নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানান, গল্পের গভীরতার চেয়ে দৃশ্য আকর্ষণীয় করার ওপর বেশি জোর দেওয়াটাই ভুল ছিল। এর ফলে ছবিটি একটি উপভোগ্য স্পাই-থ্রিলার হওয়ার বদলে দর্শকদের কাছে ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এজেন্ট বিনোদ’ ছবির এই পরিণতি বলিউডের জন্য একটি বড় শিক্ষা। পরিচালকের ওপর তারকাদের নিজস্ব মতাদর্শ বা প্রভাব চাপিয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি ছবির গুণগত মান নষ্ট করে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। তবে মুক্তির সময় বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও, সইফ-করিনা জুটির এই ছবি পরবর্তী সময়ে একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীর কাছে অবশ্য আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।