বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে মদিরা আর ফাইভ স্টার পরিষেবা! মাতলার চর বুজিয়ে পরেশ রাম কী কী করেছে?

বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে মদিরা আর ফাইভ স্টার পরিষেবা! মাতলার চর বুজিয়ে পরেশ রাম কী কী করেছে?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা ও ক্যানিং থানা এলাকার বুক চিরে বয়ে চলা মাতলা নদী যেন ক্রমেই শাসকদলের নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে! ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে নদীর চর বুজিয়ে বিশালাকার ক্যাফে তৈরির অভিযোগ আগেই ছিল। এবার খোদ ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে মাতলার চর বিক্রি করে অবৈধ নির্মাণ ও অনৈতিক কার্যকলাপ চালানোর সাঙ্ঘাতিক অভিযোগ সামনে এল।

লক্ষ টাকার বিনিময়ে চর বিক্রি

নদীখাত ভরাট করে দিনের পর দিন অবাধে চলছে জমি কেনাবেচা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, নদীর চর দখল করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেখানে দোকানপাট বসিয়েছেন বিধায়ক পরেশরাম দাস।

  • স্থানীয় এক মহিলার দাবি, ওই এলাকায় বেআইনিভাবে বাড়ি করতে বিপুল টাকার প্রয়োজন হয়। এক কাঠা জমির জন্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
  • অন্যদিকে, স্বজনপোষণের অভিযোগও প্রকট। প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, আত্মীয়তার সুবাদে তাঁকে বাড়ি করার জন্য কোনো টাকা দিতে হয়নি।

বৃদ্ধাশ্রমের সাইনবোর্ড, ভেতরে বিলাসবহুল বিশ্রামাগার!

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠেছে নদীর চরে গড়ে ওঠা একটি ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, নামমাত্র কয়েকজন বৃদ্ধাকে সেখানে রাখা হলেও, মূলত এই ভবনটি বিধায়কের ব্যক্তিগত ও বিলাসবহুল বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জনসেবার আড়ালে নদীর ওপর এমন ব্যক্তিগত ফাইভ-স্টার পরিকাঠামো গড়ে তোলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিস্ফোরক বিজেপি: ‘কামিনী কাঞ্চন থেকে মদিরা’

তৃণমূল বিধায়কের এই কার্যকলাপ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে পরেশরাম দাসের তুলনা টেনে এক বিজেপি নেতা বলেন,

“উনি হলেন শওকতের জেরক্স কপি! বৃদ্ধাশ্রমের নাম করে ভেতরে ফাইভ স্টার পরিষেবা চলে। কামিনী কাঞ্চন থেকে শুরু করে মদিরা—সবকিছুর আসর বসে সেখানে। বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে যাবতীয় অনৈতিক কাজ চলে।”

বিশ্লেষকদের মত ও প্রশাসনের ভূমিকা

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পরিবেশকর্মীদের মতে, মাতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীর চর এভাবে দিনের পর দিন বুজিয়ে ফেলা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সংকেত। একদিকে টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি, অন্যদিকে বৃদ্ধাশ্রমের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে ফুর্তির আসর বসানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নিচুতলার নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতি ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল। একের পর এক এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার পরও প্রশাসনের নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *