‘বাকিদের আমার উপর ছেড়ে দিন’! অনুপ্রবেশকারী ও দুষ্কৃতীদের একহাতে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে পালাবদলের পর আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে যে কোনো আপস করা হবে না, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি, রাজ্যে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বার্তা দেন তিনি।
দুষ্কৃতী ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের এখনও এক মাসও পেরোয়নি, এরই মধ্যে ‘আবহাওয়া বদলের’ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন তৃণমূল আমলের দুষ্কৃতীদের নিশানা করে তিনি জানান, অপরাধীদের অনেকেই ইতিমধ্যেই রাজ্য ছেড়েছে। যারা এখনও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “বাকি যারা রয়েছে, তাদের আমার ওপর ছেড়ে দিন।” পুলিশের ওপর হামলা বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যে বর্তমান সরকার বরদাস্ত করবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে তাঁর দ্ব্যর্থহীন বার্তা— এ রাজ্যে কেবল ভারতের প্রকৃত নাগরিকদেরই স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার রয়েছে।
শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান ও অতীত সমালোচনা
আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাতেও উদ্যোগী হয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে কোনো শিল্পবান্ধব পরিবেশ ছিল না, প্রশাসন ও পুলিশ দলদাস বা ক্যাডারে পরিণত হয়েছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত রাজনীতিকরণের ফলে উন্নয়ন থমকে ছিল। তবে বর্তমানে ‘প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদের হাত’ থাকায় রাজ্যে সার্বিক উন্নয়ন গতি পাবে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেন। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে গো-শালা নির্মাণের জন্য শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে জোর
নতুন সরকারের কাছে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিও উঠে এসেছে এই মঞ্চ থেকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অযোধ্যার রাম জন্মভূমির তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান গোবিন্দদেব গিরিজি মহারাজ। তিনি রাজ্যের সার্বিক উন্নতির জন্য শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ জোর দেন। অতীত আমলের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবেশ করা গলদগুলো দূর করে তাকে দ্রুত আধুনিকীকরণ করার দায়িত্ব নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের চোখ
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন কড়া হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে রাজ্যের হৃত শিল্প-গৌরব ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের জমে থাকা প্রশাসনিক জট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুত এই ‘আবহাওয়া বদল’ বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনকে নিজের ছন্দে ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী যে কিছুটা সময় চেয়েছেন, তা এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।