সুন্দরবনে আতঙ্ক: এক সপ্তাহে বাঘের পেটে ৪ মৎস্যজীবী

সুন্দরবনের ত্রাসে চার মৎস্যজীবীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ কুলতলী
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের কুলতলীতে বাঘের আতঙ্ক এখন চরম আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন মৎস্যজীবী ও বনজীবী। পরিবারের মুখে অন্ন জোগানোর তাগিদে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গহীন বনে মধু ও কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়েই তাঁরা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শিকার হন। পরপর চারজনের মৃত্যুতে গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঘের আক্রমণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের বিষচক্র
জীবিকার জন্য সুন্দরবনের বিপদসংকুল জঙ্গলে প্রবেশ ছাড়া অধিকাংশ মৎস্যজীবীর সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকে না। কাঁকড়া ধরা বা মধু সংগ্রহের মতো কাজ করতে গিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়েই এমন প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় বারংবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। বাঘের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
নিহতের পরিবারের পাশে প্রশাসন
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিহতদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ও স্থানীয়দের সুরক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।