দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক, ভাঙন রুখে নতুন রণকৌশলের খোঁজে বিরোধীরা!

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক, ভাঙন রুখে নতুন রণকৌশলের খোঁজে বিরোধীরা!

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন রণকৌশল সাজাতে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করতে ফের বৈঠকে বসছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। রাজধানী নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে দেশের মোট ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে চলেছে। কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছেন। মোদী সরকারের একনায়কতন্ত্র, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে একমঞ্চে আনাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

বিক্ষোভ ও বয়কটের আবহে শরিকি টানাপড়েন

বিরোধী ঐক্য পোক্ত করার বার্তা দেওয়া হলেও জোটের অন্দরের ফাটল কিন্তু পুরোপুরি ঢাকা যাচ্ছে না। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর সে রাজ্যে সুপারস্টার থালাপথি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে)-কে কংগ্রেস সমর্থন করায় চরম ক্ষুব্ধ ডিএমকে। ঘরের মাঠে কংগ্রেসের এই অবস্থানের প্রতিবাদে এম কে স্ট্যালিনের দল এই বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, কেরল নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে তীব্র সংঘাত হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে সিপিআই(এম)। দলের পক্ষে রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস এই আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করবেন।

বাংলার ধাক্কা ভুলে দিল্লির মঞ্চে মমতা

এই বৈঠকের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ও শোচনীয় পরাজয়ের পর জাতীয় স্তরে এটাই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা সামলে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের ও দলের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর। জোটের অন্দরে তৃণমূলের আগামী দিনের অবস্থান কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে বিজেপির রাজনৈতিক দাপট ও আধিপত্য বৃদ্ধির পর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা ও সম্পর্কের টানাপড়েন মেটানোর পাশাপাশি সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে যৌথভাবে চেপে ধরতে এক সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ কাটিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট আগামী দিনে মোদী সরকারকে কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *