মোদীর দেওয়া বহুমূল্য হিরে কেন ফেরাতে বাধ্য হলেন জিল বাইডেন?

মোদীর দেওয়া বহুমূল্য হিরে কেন ফেরাতে বাধ্য হলেন জিল বাইডেন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপহার দেওয়া ৭.৫ ক্যারেটের একটি চমৎকার ল্যাব-নির্মিত হিরে নিজের কাছে রেখে দিতে চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি ডক্টর জিল বাইডেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসের কঠোর নৈতিকতা বিধি এবং মূল্যের বিরাট পার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তা মার্কিন সরকারের কোষাগারেই ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘ভিউ ফ্রম দ্য ইস্ট উইং: আ মেমোয়ার’-এ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

উপহারের দাম নিয়ে বিভ্রান্তি ও মার্কিন নিয়ম

২০২৩ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর আমেরিকা সফরের সময় ভারতের ল্যাব-নির্মিত রত্ন শিল্পের প্রতীক হিসেবে এই হিরেটি উপহার দেন। সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর নিজের শহরে তৈরি এই হিরের দাম মাত্র ২,৫০০ ডলার। জিল বাইডেন এটি নিজের অর্থে কিনে রাখতে চাইলেও বাদ সাধে আমেরিকার ‘এথিক্স’ বা নৈতিকতার নিয়ম। মার্কিন আইন অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া উপহার সরাসরি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং তা ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখতে হলে সরকারকে আসল বাজারমূল্য চোকাতে হয়। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক হিরেটির আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন করে জানায়, এর প্রকৃত বাজারদর প্রায় ২০,০০০ ডলার। মোদীর জানানো দামের সঙ্গে এই বিপুল পার্থক্যের কারণেই জিল বাইডেন হিরেটি কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

কঠোর নিয়মের প্রভাব ও স্বচ্ছতা

ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিনতে না পারলেও, জিল বাইডেন সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য হিরেটিকে একটি আংটিতে বসিয়ে ধার নেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে মেয়াদ শেষে নিয়ম মেনে সেটি সরকারি গুদামে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া উপহারের ক্ষেত্রে এই কঠোর নিয়ম মূলত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত স্তরে প্রভাব খাটানোর পথ বন্ধ করার জন্যই তৈরি। জিল বাইডেন তাঁর বইয়ে জানিয়েছেন, একইভাবে তিনি ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডির দেওয়া একটি ব্রেসলেট নিজের অর্থে কিনেছিলেন, যা প্রমাণ করে যে মার্কিন প্রশাসনে উপহার সংক্রান্ত এই আইনি বাধ্যবাধকতা কতটা কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে পালিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *