অনলাইন গেমে বাধা! ঘুমন্ত বাবা-দিদিকে ছুরি দিয়ে কুচিয়ে খুন, আত্মহত্যার চেষ্টা নাবালকের

অনলাইন গেমে বাধা! ঘুমন্ত বাবা-দিদিকে ছুরি দিয়ে কুচিয়ে খুন, আত্মহত্যার চেষ্টা নাবালকের

মোবাইল গেম কেড়ে নেওয়ার জের! কর্নাটকে মা-বাবা ও দিদিকে ছুরি মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা নাবালকের

অনলাইন মোবাইল গেমিংয়ের নেশা কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ। মোবাইল ফোনে গেম খেলতে বাধা দেওয়ায় নিজের পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালাল এক নাবালক। ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে দিদির, পরে হাসপাতালে মারা যান বাবা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা এবং অভিযুক্ত নাবালক নিজেই। কর্নাটকের কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী গ্রামীণ পুলিশ থানা এলাকার হোসা অযোধ্যা গ্রামে গত শনিবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম ভেঙ্কট নাইডু (৪৫) এবং প্রগতি (১৯)। অভিযুক্ত নাবালক সাই ভেঙ্কট মণিদীপ নিজের গলায় ছুরির কোপ মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে এবং তার মা সৌজন্যা বল্লারির ভিআইএমএস হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রাতের অন্ধকারে নৃশংস হামলা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে পেশায় বেসরকারি স্কুলের রাঁধুনি ভেঙ্কট নাইডু তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে এক ঘরে ঘুমোতে যান। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ হঠাৎ ওই ঘর থেকে চিৎকার শুনে ছুটে আসেন ভেঙ্কটের বাবা তাতারাও। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা খুলে দেখা যায়, চারজনই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৯ বছর বয়সী প্রগতির। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মারা যান ভেঙ্কট নাইডু। বৃদ্ধ তাতারাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মোবাইল আসক্তি ও চরম আক্রোশ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ানক তথ্য। বেশ কিছুদিন ধরেই সাই ভেঙ্কট মোবাইল ফোনে অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এই নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার বকাঝকা করতেন এবং কয়েকবার তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়েও নেওয়া হয়েছিল। গেম খেলতে না পারার সেই চরম আক্রোশ ও ক্ষোভ থেকেই শনিবার রাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর আচমকা ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই নাবালক।

মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান প্রজন্মে অনলাইন গেমের অতিরিক্ত আসক্তি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ভারসাম্য ও আচরণে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গেম খেলার সুযোগ না পেলে বা ফোন কেড়ে নিলে তাদের মধ্যে তীব্র অবদমন, হিংস্রতা ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে, যা এই ধরনের চরম ও নৃশংস অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *