ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফায় কলকাতা পুরসভায় চরম অনিশ্চয়তা, সাদা পাতায় সই করতে নারাজ কাউন্সিলররা

মেয়াদ শেষের সাত মাস আগেই ফিরহাদ হাকিমের আকস্মিক পদত্যাগে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আকাশে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে তীব্র জল্পনার মাঝেই নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের একাংশের অবস্থান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য দলীয় স্তরে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সাদা পাতায় সই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর তাতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরেই বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্ব সংকটে শাসক শিবির ও সম্ভাব্য নাম
ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভা আদৌ তৃণমূলের দখলে থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। একের পর এক কাউন্সিলরের ইস্তফা এবং দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারির জেরে পুরসভায় দলের রাশ অনেকটাই আলগা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন মেয়র বসিয়ে পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের অন্দরে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চললেও, অনেকেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। অন্যদিকে, ডেপুটি মেয়র পদের জন্য অতীন ঘোষের নাম উঠে আসছে। খাতায়-কলমে পুরসভায় তৃণমূলের ১৩৬ জন কাউন্সিলর থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সই ছাড়া নতুন মেয়র নির্বাচন সম্ভব নয়। এই সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হলেই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আসবে।
প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মেয়র পদত্যাগের পর আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, যা সোমবার বিকেলেই শেষ হচ্ছে। একইসঙ্গে পুর-কমিশনারের কাছে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, যার সন্তোষজনক উত্তর না মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার এই অচলাবস্থার কারণে আগামী ১৯ জুন জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন পুর-চেয়ারপার্সন মালা রায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিধাননগর ও চন্দননগর পুরসভার মেয়রদের পদত্যাগের পর সেখানে যেভাবে সরকারি প্রশাসক বসানো হয়েছে, কলকাতার ক্ষেত্রেও সেই একই মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রশাসনিক শূন্যতা দীর্ঘায়িত হলে মহানগরের নাগরিক পরিষেবা যেমন ব্যাহত হবে, তেমনই পুরভোটের আগে তা শাসক দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।