ইন্ডি জোটেই আছেন স্ট্যালিন! ডিএমকে-র বৈঠক এড়ানো নিয়ে জল্পনা ওড়ালেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য

ইন্ডি জোটে জল্পনার অবসান, ডিএমকে-র অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ঐক্যের বার্তা বামেদের
নয়াদিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দক্ষিণের প্রভাবশালী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কঝগম বা ডিএমকে (DMK)-এর অনুপস্থিতি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী এই আবহে জোটের অন্যতম শরিক দলের বৈঠকে না থাকা নিয়ে যখন ফাটলের তত্ত্ব ডানা মেলছে, ঠিক তখনই আসরে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বামপন্থীরা। সিপিআই(এম-এল) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো একটি বৈঠকে নেতারা উপস্থিত না থাকার অর্থ এই নয় যে তারা জোট থেকে সরে গেছেন। ডিএমকে পুরোপুরিভাবে জোটের সঙ্গেই রয়েছে।
জল্পনার কারণ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরের মহাজোটে আঞ্চলিক দলগুলোর অংশগ্রহণ সব সময় মসৃণ হয় না। প্রায়শই নিজস্ব রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ, আঞ্চলিক স্বার্থ এবং নির্বাচনী কৌশলের কারণে জোটের মধ্যে সাময়িক টানাপোড়েন বা সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়। দিল্লির এই বৈঠকে ডিএমকে-র অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে রাজধানীতে বিতর্কিত পোস্টার পড়ার ঘটনা বিরোধী শিবিরের অন্দরের চাপকে সামনে এনেছে। তবে কংগ্রেসসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব একে বড় কোনো ফাটল হিসেবে দেখতে নারাজ।
ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও সুসংহত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন বিরোধী নেতারা। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অভূতপূর্ব এবং এই সময়ে সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডিএমকে-র মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গীকে পাশে রাখা জোটের স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বামেদের এই ইতিবাচক ও আশাবাদী অবস্থান সাময়িকভাবে জল্পনায় জল ঢাললেও, আগামী দিনে জাতীয় স্তরে আসন রফাদফা এবং রাজ্যভিত্তিক স্বার্থ রক্ষা করে ইন্ডি জোট কতটা সুসংহতভাবে এগোতে পারে, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই বৃত্তের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব।