পালাবদলের পরেই পুলিশে মেগা রদবদল! ১৭৯ জন আধিকারিক বদলি, পরিবর্তন একাধিক জেলার SP পদে

রাজ্য পুলিশে বিশাল রদবদল, একাধিক জেলার এসপি ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে এক বড়সড় রদবদল ঘটানো হলো। কলকাতা পুলিশ, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট, সিআইডি এবং এসটিএফ সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগের মোট ১৭৯ জন পুলিশ আধিকারিককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সরকারের কার্যকালে এটিই পুলিশ মহলে প্রথম এত বড় মাপের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল রদবদল মূলত একটি রুটিনমাফিক প্রক্রিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন ও নতুন দায়িত্ব
নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাঁকুড়া ও মালদা রেঞ্জ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আইজিপি (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে একলপ্তে বদলে দেওয়া হয়েছে বহু জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি)। বীরভূমের বিদায়ী এসপি সূর্যপ্রতাপ যাদবকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) এবং পুরুলিয়ার এসপি বৈভব তিওয়ারিকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি পদে আনা হয়েছে। জলপাইগুড়ির বিদায়ী এসপি অমরনাথ কে যাচ্ছেন নর্থ বেঙ্গল আইবির ডিআইজি পদে।
কলকাতার বিভিন্ন জোনেও আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের। ডায়মন্ড হারবারের এসপি ঈশানি পালকে কলকাতা পুলিশের সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনের ডিসি এবং পূর্ব বর্ধমানের এসপি সায়ক দাসকে নর্থ ডিভিশনের ডিসি করা হয়েছে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি, বারাসাত, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ দিনাজপুর, বারুইপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া, হাওড়া গ্রামীণ, পুরুলিয়া এবং হুগলি গ্রামীণ জেলাগুলোতে নতুন পুলিশ সুপারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) এবং এসডিপিও পদের আধিকারিকদেরও বদলি করা হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনকালীন সময়ে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ স্তরে বড় ধরনের রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় বহু আইপিএস অফিসার, জেলার পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন থানার ওসি-আইসিদের নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে স্থানান্তরিত হতে হয়েছিল। নির্বাচন শেষ হতেই প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জেলা ও শহরগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুলিশ প্রশাসনের কাজে নতুন গতি আসবে এবং সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি সমন্বয় তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।