সবাই যেন এক থাকি, বিধানসভায় দীর্ঘ বৈঠকের পর ফিরহাদের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা!

সবাই যেন এক থাকি, বিধানসভায় দীর্ঘ বৈঠকের পর ফিরহাদের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের মাঝেই সোমবার রাজ্য বিধানসভার অন্দরে ঘটে গেল এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ ছাড়ার পর এদিনই প্রথম বিধানসভায় এসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। আর তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিধানসভার লবি থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতার ঘর পর্যন্ত একের পর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও কথোপকথন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঋতব্রতর ঘরে দীর্ঘ বৈঠক ও লবির নাটকীয়তা

সোমবার বিধানসভায় পৌঁছে প্রথমে লবিতে বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই সময় সেখানে হাজির হন শাসকদলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ তথা বিধায়ক সন্দীপন সাহা। এরপর সন্দীপনবাবু ফিরহাদকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি চলে যান বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা দশ মিনিট ধরে তাঁদের মধ্যে একটি দীর্ঘ বৈঠক চলে। আনুষ্ঠানিকভাব বৈঠকের বিষয়বস্তু গোপন রাখা হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিধানসভার অন্দরের সমীকরণ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই দীর্ঘ বৈঠক শেষে ঋতব্রতর ঘর থেকে বেরিয়েই লবিতে উপস্থিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং অশোক দেবের দিকে এগিয়ে যান ফিরহাদ। সেখানে চার নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আলোচনার সময় কুণাল ঘোষকে হাত নেড়ে বেশ জোর দিয়ে কিছু বলতে দেখা যায়, যা দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ সংক্রান্ত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই আলোচনা চলাকালীনই সেখানে উপস্থিত হন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তিনি প্রথমে কুণাল ও ফিরহাদদের সঙ্গে এবং পরে আলাদা করে ফিরহাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাপস রায়কে পৃথকভাবে অশোক দেবের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায়।

ঐক্যের বার্তা বনাম দূরত্ব তৈরির জল্পনা

এই ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেছেন ফিরহাদ হাকিম। বৈঠক শেষে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি দাবি করেন, তিনি মূলত আড্ডা দিতেই এসেছিলেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সবাইকে একসঙ্গে থাকার বার্তাই তিনি দিয়েছেন এবং দলের স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তৎপরতাকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে দিল্লিতে তৃণমূলের সংসদীয় শিবিরে যখন ভাঙনের জল্পনা জোরালো হচ্ছে, তখন বিধানসভার এই ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরের সমীকরণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে ফিরহাদ হাকিম দূরত্ব তৈরি করছেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই বৈঠকগুলির প্রকৃত রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে শাসকদলের অন্দরে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *