সুখেন্দুর ইস্তফায় তৃণমূলে তীব্র কম্পন, পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত

সুখেন্দুর ইস্তফায় তৃণমূলে তীব্র কম্পন, পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত

তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর শাসক শিবিরের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সুখেন্দুর এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলে কোনো ‘ভাঁড়ামো’র জায়গা নেই এবং সুখেন্দুশেখর রায় যা বলেছেন তা শতভাগ সত্য।

দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও আত্মসমীক্ষার অভাব

সাংসদ পদ ছাড়ার পরপরই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো এবং সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয় নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পরেও দলের ভেতরে কোনো আত্মানুসন্ধান বা কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুর মিলিয়ে বলেন যে, সুখেন্দুবাবু এক ইঞ্চিও বাড়িয়ে বলেননি। ঋতব্রত নিজে গত ১৫ মাস সংসদে শেষ বেঞ্চে বসে বঞ্চনা সহ্য করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নাম না করে দলের শীর্ষ স্তরের কয়েকজন সাংসদকে নিশানা করেন।

দুর্নীতি ও নীতিগত বিচ্যুতির প্রভাব

সুখেন্দুশেখর রায়ের এই দলত্যাগের পেছনে গভীর নীতিগত বিচ্যুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণ উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলে দুর্নীতির বীজ বপন হয়েছিল, যার উদাহরণ হিসেবে তিনি ডেলো পাহাড়ের বিতর্কিত বৈঠক ও মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি চড়া দামে বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। এছাড়া, আরজি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার পর দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে তাঁর প্রতিবাদী ভূমিকা ও ধর্নায় বসার সিদ্ধান্তও এই দূরত্বের অন্যতম কারণ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লিতে যখন তৃণমূল সাংসদরা কেন্দ্রীয় স্তরে হাইভোল্টেজ বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই পদত্যাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রবীণ ও ক্ষুব্ধ নেতাদের এমন অবস্থান আগামী দিনে শাসক দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *