যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে ৫ হাজার নারী-শিশুর পরিত্রাতা! রাষ্ট্রপুঞ্জের সেরা সম্মান পেয়ে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় সেনা মেজর অভিলাষা

যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে ৫ হাজার নারী-শিশুর পরিত্রাতা! রাষ্ট্রপুঞ্জের সেরা সম্মান পেয়ে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় সেনা মেজর অভিলাষা

যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে নারী ও শিশুদের পরিত্রাতা ভারতীয় সেনার মেজর অভিলাষা, পেলেন আন্তর্জাতিক সম্মান!

যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে নিজের অসামান্য সাহস, মানবিকতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আশার আলো ছড়াচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর অভিলাষা বারাক। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম ফোর্স ইন লেবানন’ (UNIFIL)-এর অধীনে কর্মরত এই কর্মকর্তা তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও শান্তিরক্ষায় নিরলস কাজের জন্য তিনি ২০২৫ সালের ‘ইউনাইটেড নেশনস মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, অভিলাষার এই সাফল্য দেশের অগণিত তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

ইতিহাস গড়া কর্মজীবন ও সুযোগ্য নেতৃত্ব

হরিয়ানার রোহতকের এক সেনা পরিবারে জন্ম নেওয়া অভিলাষার রক্তেই ছিল দেশপ্রেম। ২০১৬ সালে দিল্লি টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর, ২০১৭ সালে অফিসার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এয়ার ডিফেন্স কোরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতা প্রকাশ পেতে শুরু করে। ২০১৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে এয়ার ডিফেন্স কোরের ‘প্রেসিডেন্টস কালার্স’ সম্মান গ্রহণের সময় কন্টিজেন্টকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রথম দেশবাসীর নজরে আসেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম মহিলা ‘কমব্যাট এভিয়েটর’ পদে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন।

শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন

দক্ষিণ লেবাননে ‘এনগেজমেন্ট টিম কমান্ডার’ এবং ‘জেন্ডার ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি যুদ্ধ ও অস্থিরতায় ক্ষতবিক্ষত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ২০২৫ সালের জুনে মিশনে যোগদানের পর থেকে মাত্র ছয় মাসে তিনি ৫৩৯টি ‘জেন্ডার-ফোকাসড’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা পুরো মিশনের মধ্যে সর্বোচ্চ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সেখানকার ৫ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশুকে সরাসরি সাহায্য করেছেন।

মেজর অভিলাষার অন্যতম বড় কৃতিত্ব ছিল ‘লেবানন জেন্ডার ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি এআই (AI) নির্ভর প্ল্যাটফর্ম চালু করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় নারী ও শিশুরা গোপনে তাঁদের ওপর হওয়া হিংসার অভিযোগ জানাতে পারতেন এবং একই সঙ্গে আত্মরক্ষা ও শিক্ষার নানাবিধ সুযোগ পেতেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ লেবাননের ৭৫ জন মহিলাকে ভারতের ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করেন। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মূল লক্ষ্যই হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, যা মেজর অভিলাষা বারাক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রমাণ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *