‘প্যান্টে হলদে দাগ লাগা লোভী বেইমান!’ ইউসুফ পাঠানকে ‘মেরুদণ্ড সোজা’ রাখার পরামর্শ দিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ মহুয়ার

তৃণমূলের ২০ সাংসদের এনডিএ শিবিরে যাওয়ার হিড়িক, তীব্র আক্রমণ মহুয়ার
দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে আচমকাই বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ২০ জন সাংসদ শাসক দল এনডিএ শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে তাঁরা পৃথক ব্লক হিসেবে বসার এবং এনডিএ-কে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের এই আকস্মিক ভাঙন ও বিদ্রোহের মুখে পাল্টা রণংদেহী মেজাজে আসরে নেমেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলত্যাগী ও বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গর্জে উঠেছেন তিনি।
বিদ্রোহীদের ‘বেইমান’ আখ্যা ও পুনর্নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ
দলত্যাগী সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মহুয়া মৈত্র দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ যে জনাদেশ দিয়েছিলেন, তা কোনোভাবেই এনডিএ-র পক্ষে ছিল না। কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, লোভী ও স্বার্থান্বেষী বেইমানরা যেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে নিজেদের আসন থেকে ইস্তফা দিয়ে পুনরায় বিজেপির টিকিটে লড়াই করে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণ করেন। তৃণমূলের এই বিদ্রোহে ঘাটালের অভিনেতা-সাংসদ দেব এবং বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতির জল্পনা তৈরি হতেই মহুয়া মৈত্র ইউসুফ পাঠানকে ট্যাগ করে বিশেষ বার্তা দেন। ভারতের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারকে অমিত শাহের ডাকে দিল্লি ছুটে না গিয়ে সাহস দেখাতে এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নেপথ্য কারণ ও জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। দলত্যাগী সাংসদদের একাংশের দাবি, ‘বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে’ই তাঁরা মোদী সরকারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য জাতীয় স্তরে বড় ধাক্কা। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা যদি এই ২০ জন সাংসদের পৃথক ব্লককে স্বীকৃতি দেন, তবে লোকসভার অন্দরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের অবস্থান ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জমি আরও মজবুত হবে, যা বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অন্দরেও বড় ফাটল ধরাতে পারে।