‘আমার রক্তে বেইমানি নেই’! দলের কঠিন সময়ে দিদির পাশেই আবেগঘন কুণাল ঘোষ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর চরম সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে কাউন্সিলরদের দলবদল আর অন্তর্ঘাতের জল্পনার মাঝেই এবার দলের প্রতি নিজের অবিচল আনুগত্যের কথা স্পষ্ট করলেন রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
‘রক্তে বেইমানি নেই’
দলের এই দুঃসময়ে যখন ছোট-বড় অনেক নেতাই হিসাব কষতে এবং ভুল ধরতে ব্যস্ত, তখন সোমবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেন কুণাল। তিনি লেখেন, “আমি হয়ত অনেকের কাছে খারাপ। কিন্তু এতটা খারাপ নই যে দলের সঙ্কটের সময় নিজের অঙ্ক কষে পালাব।” অতীতে চরম বিপদের দিনে দল তাঁর পাশে না দাঁড়ালেও, দলের এই সংকটে তিনি যে নেত্রীর পাশেই আছেন, তা স্পষ্ট করে কুণাল লেখেন, “দলের বিপদে আমি সঙ্গে থেকে দেখিয়ে দিয়ে যাব আমার রক্তে বেইমানি নেই। আমি কুণাল ঘোষ। যাঁরাই থাকবেন দিদির সঙ্গে, সহযোদ্ধা হিসেবে আছি।”
সাংসদদের গোপন বৈঠক ও ভাঙনের জল্পনা
কুণাল ঘোষ যখন দলের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য দেখাচ্ছেন, তখন তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দিল্লিতে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ একটি গোপন বৈঠক করেছেন। সেখানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে নিজেদের ‘ভিন্ন গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হতে পারে। একাংশের মতে, গণইস্তফা দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই ঘটনায় বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট আরও দুর্বল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলবদল ও নতুন ব্লকের মাঝে ব্যতিক্রম কুণাল
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ তৈরি হয়েছে। তবে দলের এই কঠিন দুঃসময়ে অন্যান্য নেতারা যখন শিবির বদলাতে ব্যস্ত, তখন কুণাল ঘোষ প্রমাণ করলেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হয়েই থাকবেন।