হস্টেল থেকে মুক্তির নৃশংস পরিকল্পনা, সাত বছরের শিশুকন্যাকে খুন দুই কিশোরীর!

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এক আবাসিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারই বাবা-মা পরম আদরে মেয়েকে হোস্টেলে রেখে এসেছিলেন, আর শনিবারই মিলল তার নিথর দেহ। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ একই হোস্টেলের নবম শ্রেণির দুই কিশোরীকে আটক করে ‘সেফ কাস্টডি’তে নিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায় শিউরে উঠেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে এল নৃশংস পরিকল্পনার কথা
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হোস্টেলের কঠোর নিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল অভিযুক্ত দুই কিশোরী। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেভাবেই হোক হোস্টেল ত্যাগ করা। এই অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে টার্গেট করে। শৌচাগারের বালতির জলে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করার পর, মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তার হাতের শিরাও কেটে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ এবং ধৃতদের বয়ানে বারবার অসঙ্গতি মেলা থেকেই পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। রবিবার তাদের জুভেনাইল আদালতে তোলা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
ঘটনাটি কেবল একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নজির নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনে আবাসিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে এনেছে। বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়া থেকে দূরে আবাসিক পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষায় হোস্টেল কর্তৃপক্ষ কতটা মনোযোগী, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। কৃষ্ণনগরের সন্ধ্যামাঠপাড়া এলাকার ওই পরিবারে শোকের মাতম চলছে। ঘটনার পরেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে বিষয়টি তদন্ত করছে।