হরমুজের নির্ভরতা কাটিয়ে জ্বালানি সংকট মেটাতে ওমান থেকে গুজরাটে আসছে সমুদ্রগর্ভের বিশাল পাইপলাইন!

হরমুজের নির্ভরতা কাটিয়ে জ্বালানি সংকট মেটাতে ওমান থেকে গুজরাটে আসছে সমুদ্রগর্ভের বিশাল পাইপলাইন!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায়শই জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হয় ভারতকে। পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওমান থেকে সরাসরি গুজরাট পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি জ্বালানি পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে আনুমানিক ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

হরমুজ সংকটের বিকল্প ও ভূগর্ভস্থ জরিপ

চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ মাস ধরে অবরুদ্ধ। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় ভারতের জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলো হামলার মুখোমুখি হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত তিন দশকে ওমান-ভারত পাইপলাইন প্রকল্পটি একাধিকবার আলোচনার টেবিলে উঠলেও বিপুল ব্যয় ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে ‘SAGE’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা। পাশাপাশি, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গেইল (GAIL), ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL) এবং ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন (IOC)-কে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ওমান সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।

প্রকল্পের প্রযুক্তিগত রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাইপলাইনটি ওমানের রাস আল জিফান থেকে আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে সরাসরি গুজরাটের পোরবন্দরে এসে পৌঁছাবে। সমুদ্রের প্রায় ৩ হাজার মিটার বা তারও বেশি গভীর দিয়ে এই পাইপলাইন স্থাপন করা হবে, যা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত ও চ্যালেঞ্জিং। প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৩১ থেকে ৫৬ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরাসরি ভারতে পরিবহন করা সম্ভব হবে। সমুদ্রপথে জাহাজে করে জ্বালানি আমদানির যে বিপুল খরচ ও ঝুঁকি থাকে, এই সরাসরি পাইপলাইনের ফলে তা কার্যত শূন্যে নেমে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের এই সরাসরি জ্বালানি করিডোর দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *