দুয়ারে সিআইডি, দিল্লিতে সোনিয়ার শরণাপন্ন মমতা!

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সংলগ্ন অফিসে সিআইডির হানা এবং দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবেন তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা। সই জাল সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে যখন তদন্তকারী আধিকারিকরা কালীঘাটে তৎপর, ঠিক সেই মুহূর্তেই দিল্লিতে ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো।
রাজনৈতিক কোণঠাসা ও নতুন সমীকরণ
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় এবং দলীয় সাংসদদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তাঁর ভাইপো তথা তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি ও ইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। সই জাল কাণ্ডে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডির হানা এই চাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত রাজ্য রাজনীতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার তাগিদেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পুরনো সম্পর্কের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
রাজীব গান্ধীর আমল থেকেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার সুসম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কে বড় কোনো ছেদ পড়েনি। ইন্ডিয়া জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে সোনিয়াকে আলিঙ্গন করার চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই জোটকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়ে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক জমি শক্ত করা এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ মোকাবিলায় বিরোধী জোটের ঐক্যকে কাজে লাগানো।