দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দ প্রত্যাহার, বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দ প্রত্যাহার, বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘ধাম’ শব্দবন্ধটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। ওড়িশা সরকারের আপত্তির প্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে দিঘার এই মন্দির ‘শ্রীশ্রীজগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামে পরিচিত হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মন্দিরের নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

গত বছর উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘার মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়ত ও পণ্ডিতদের একাংশের মতে, ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রীয় প্রেক্ষাপটে ১২০০ বছরের প্রাচীন পুরীর মূল মন্দিরের ক্ষেত্রেই একমাত্র ‘ধাম’ শব্দটি প্রযোজ্য। এই আপত্তি জানিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি নবান্নে চিঠি পাঠান। পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রের মাধ্যমে সেই অনুরোধপত্র সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং মন্ত্রিসভার আলোচনার মাধ্যমে নামের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রয়াস

নাম পরিবর্তন হলেও মন্দিরের দৈনন্দিন আচার-অনুষ্ঠান, পুজো এবং ভজন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগেকার নিয়ম মেনেই মন্দিরের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। ওড়িশা সরকারের এই দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেওয়ার ফলে দুই রাজ্যের মধ্যে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তার সৃষ্টি হলো বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *