জয় হিন্দ! কাশ্মীরের সঙ্গে লাদাখ জুড়ল ভারতের দীর্ঘতম জোজিলা টানেল!

কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। মঙ্গলবার একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে জোজিলা টানেলের শেষ ২.৫ মিটার পাথরের অংশ অপসারণ করা হয়, যা টানেলের দুই প্রান্তকে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত করল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৫৭৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ১৩.১৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি বিশ্বের দীর্ঘতম দ্বিমুখী একক-টিউব সড়ক টানেল হিসেবে ইতিহাস গড়ল। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকরি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মনোজ সিনহা।
শীতকালেও খুলবে যোগাযোগের পথ
বর্তমানে তুষারপাতের কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস জোজিলা পাস বন্ধ থাকে, যার ফলে কাশ্মীর ও লাদাখ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই টানেলটি চালু হলে বছরের বারো মাসই এই দুই অঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় থাকবে। হিমালয়ের ভঙ্গুর ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ‘নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড’ ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করেছে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। প্রায় ৬,৮০৮.৬৯ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যদিও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি
জোজিলা টানেলের নির্মাণ কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক বিশাল মাইলফলক। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কৌশলগত গতিবিধি সহজ করার পাশাপাশি এই প্রকল্প লাদাখ ও লেহ অঞ্চলের পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে গোটা অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে।