পচা ডিমই এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার, নেপথ্যে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস!

পচা ডিমই এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার, নেপথ্যে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস!

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পচা ডিম নিক্ষেপ প্রতিবাদের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রাজ্যের পালাবদলের পর শাসকদলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ বিধায়করা—যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, সৌগত রায় বা সব্যসাচী দত্ত—বারবার এই অভিনব প্রতিবাদের শিকার হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ক্ষোভ উগরে দিতে জনপ্রতিনিধিদের দিকে ডিম ছোড়ার এই রীতি শুধু বাংলা বা ভারতের নয়, এর পেছনে রয়েছে এক সুদীর্ঘ বিশ্ব-ইতিহাস।

ইতিহাসের পাতায় ডিম-প্রতিবাদ

জনসমক্ষে অপছন্দের ব্যক্তি বা ব্যর্থ শিল্পীদের দিকে পচা ডিম বা ফল ছোড়ার রীতি শুরু হয়েছিল ১৬শ ও ১৭শ শতকের ইউরোপে। সেসময় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে দর্শকরা থিয়েটারে অসন্তুষ্ট হলে এই পথ বেছে নিতেন। পরবর্তীতে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হয়ে ওঠে। বিশ শতকে সংবাদমাধ্যমের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯১ সালে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বা ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউনও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে ক্ষোভের জেরে সাধারণ মানুষের ছোড়া ডিমের আঘাতে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। ভারতের রাজনীতিতেও লালকৃষ্ণ আদবানি বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতাদের ডিম-বিক্ষোভের মুখে পড়ার একাধিক নজির রয়েছে।

অস্ত্র হিসেবে ডিম বেছে নেওয়ার কারণ ও প্রভাব

মূলত সহজলভ্যতা এবং কম দামের কারণেই বিশ্বজুড়ে ডিমকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই নিক্ষেপ প্রাণঘাতী নয়, ফলে গুরুতর শারীরিক আঘাতের ঝুঁকি ছাড়াই কড়া ভাষায় ক্ষোভ ও প্রত্যাখ্যান বোঝানো সম্ভব হয়। পচা ডিমের তীব্র দুর্গন্ধ জনমানসে অপমান এবং চরম আসাম্মতির শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এর প্রভাবও সুদূরপ্রসারী; কোনো নেতার দিকে ডিম ছোড়া হলে তা দ্রুত সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নেতা সামাজিকভাবে চরম অপদস্থ হন এবং তাঁর রাজনৈতিক নীতি বা কর্মকাণ্ড যে সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, তা বিনা রক্তপাতে জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *