বঙ্গে প্রাক-বর্ষার দুর্যোগ! ১০ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বইবে ঝোড়ো হাওয়া

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে জোরালো প্রভাব ফেলছে প্রাক-বর্ষার দুর্যোগ। বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রবেশ এবং উত্তর-পশ্চিম বিহার ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্তের অবস্থানের কারণেই রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির এই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় কালো মেঘে ঢাকা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টির ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হওয়ার পরিবেশ আরও প্রশস্ত হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গে কমলা সতর্কতা ও ঝোড়ো হাওয়া
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হতে পারে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না। কলকাতাতেও মেঘলা আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে, তবে এর পরেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উত্তরে প্রবল বর্ষণ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট আরও প্রবল হতে চলেছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্সে আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের এই পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং খোলা জায়গা বা গাছের তলায় আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।