দলের বিরুদ্ধে সুর, ফেরত দিলেন নির্বাচনী টাকা! বিজেপি প্রার্থীর পদক্ষেপে জোর জল্পনা

দলের বিরুদ্ধে সুর, ফেরত দিলেন নির্বাচনী টাকা! বিজেপি প্রার্থীর পদক্ষেপে জোর জল্পনা

নির্বাচনী প্রচারে দলের দেওয়া তহবিল থেকে বেঁচে যাওয়া ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। শুধু টাকা ফেরত দেওয়াই নয়, বরং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় নেতৃত্বের দিকেই কার্যত আঙুল তুলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইডি, সিবিআই বা সিআইডি যেকোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক।

অভিযোগের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

নিজের পোস্টে সঞ্জয় দাস কোনো নির্দিষ্ট নেতার নাম উল্লেখ না করলেও, বর্ধমান জেলা বিজেপির অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতার দাবি তুলে তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষ হিসেবে তিনি কখনো অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জন করেননি। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের হিসাবের পূর্ণাঙ্গ নথি জমা দিয়ে উদ্বৃত্ত টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তাঁর পরোক্ষ এই মন্তব্য দলের অন্তর্কলহকেই প্রকাশ্যে এনেছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাব

সঞ্জয় দাসের এই পোস্টকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস উভয় দলের নেতারা এই পরিস্থিতিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার, প্রত্যেকেই বিজেপি নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে আর্থিক অনিয়মের এই অভিযোগ বিজেপিকে আরও চাপে ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার বিষয়, দল এই পরিস্থিতিতে কী অবস্থান নেয় এবং তোলাবাজির অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *