‘সরকার বিরোধিতার দিন শেষ!’ বিরোধী থেকে শাসকের ভূমিকায় বিজেপি, কর্মীদের শেখানো হবে নতুন পাঠ
নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দল থেকে এখন রাজ্যের শাসকপক্ষ—এই নতুন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে মরিয়া বিজেপি। দীর্ঘদিনের আন্দোলনকারী কর্মীদের এখন ‘আন্দোলনের পথ’ ছেড়ে ‘সহযোগিতার পথ’ শেখাতে চলেছে দল। আগামী ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাই, একমাসব্যাপী রাজ্যজুড়ে বিজেপির উদ্যোগে শুরু হতে চলেছে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির।
কেন এই প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রয়োজন?
দীর্ঘদিন বিরোধী শিবিরে থাকার ফলে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে সরকারি আধিকারিক বা পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘লড়াই করার’ এক মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসায় সেই মানসিকতার বদল ঘটানোই নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল লক্ষ্য:
- মানসিকতার পরিবর্তন: দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, এতদিন কর্মীরা শিখেছেন কী করে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়। এখন তাঁদের শেখানো হবে কী করে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হয় এবং সরকারি প্রকল্পের প্রচার বাড়াতে হয়।
- সরকারি প্রকল্পের প্রচার: শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল শেখানো হবে।
- ঐতিহ্য ও আদর্শ: দলের শিকড়, জনসংঘের ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা নতুন কর্মীদের আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়া হবে।
- সমন্বয়: জেলাস্তরের পুলিশ ও সরকারি আমলাদের সঙ্গে কীভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখা যায়, সেই পাঠ দেবেন সিনিয়র নেতারা।
নেতৃত্বের বক্তব্য:
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “এখন আমাদের ‘চলছে না, চলবে না’ মনোভাব বদলাতে হবে। আমরা এখন আর বিরোধী নই, আমরা শাসক। তাই সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্য গড়ার কাজ আমাদেরই করতে হবে।”
পুরো প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, এই কর্মশালা প্রথমে মণ্ডল স্তরে, তারপর জেলা স্তরে এবং শেষে রাজ্যস্তরে আয়োজিত হবে। বিজেপি সরকারে আসার পর দলে অনেক নতুন মুখ যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের দলের ভাবধারা ও কাজের ধরন বোঝাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
এখন দেখার, দীর্ঘদিন ধরে ‘আন্দোলনের রাজনীতি’ করা কর্মীদের এই নতুন পাঠ কত দ্রুত রপ্ত করতে পারে গেরুয়া শিবির!