উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ লেপার্ডের আক্রমণ! মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বনদপ্তরের গুলিতে খতম চিতাবাঘ

ডেস্ক রিপোর্ট: লেপার্ডের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারালেন এক মহিলা। আর সেই লেপার্ডকে বাগে আনতে শেষপর্যন্ত গুলির পথই বেছে নিল বন দপ্তর। মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের পৌরি গাড়ওয়াল জেলার কোট ব্লকের বাদি গ্রামে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম প্রভা দেবী (৫৫)।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার বিকেলে গবাদি পশুর জন্য মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন প্রভা দেবী। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন স্বামী। খুঁজতে গিয়ে মাঠেই মহিলার দেহাংশ ও রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসীদের সতর্ক করেন। স্থানীয়দের দাবি, লেপার্ডের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। বিষয়টি দ্রুত বন দপ্তরের আধিকারিকদের জানানো হয়।
ঘটনাক্রম:
- যৌথ তল্লাশি: খবর পাওয়ার পরই জেলা সদর দপ্তর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বাদি গ্রামে পৌঁছায় বন দপ্তরের দল। সঙ্গে ছিলেন সরকারি শিকারিরা। পুলিশ ও গ্রামবাসীদের নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি।
- মর্মান্তিক আবিষ্কার: গ্রামের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কাঠামোর পাশ থেকে মহিলার অবশিষ্ট দেহ উদ্ধার করা হয়।
- পাল্টা আক্রমণ: দেহ উদ্ধারের সময় কাছেই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল লেপার্ডটি। বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই আচমকা তাঁদের ওপর হামলা চালায় চিতাবাঘটি।
কেন গুলি চলল?
গাড়ওয়ালের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার মহাতিম যাদব জানান, নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার্থেই বনকর্মীরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার্থে বন দপ্তরের শিকারিরা গুলি চালিয়েছেন। এছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।”
তদন্তে প্রশাসন:
ওই লেপার্ডটির আঘাতেই মহিলার মৃত্যু হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। এছাড়া এলাকায় আরও কোনো লেপার্ড লুকিয়ে আছে কি না, তা জানতেও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গ্রামে এখন আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।