টাকি পুরসভায় পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি! হাই কোর্টের দ্বারস্থ শাসক দলেরই কাউন্সিলর

টাকি পুরসভায় পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি! হাই কোর্টের দ্বারস্থ শাসক দলেরই কাউন্সিলর

টাকি পুরসভায় আর্থিক অনিয়ম ও বেনিয়মের অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। পুরসভার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের বিচার চেয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন খোদ তৃণমূলেরই কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুরসভার অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, সরকারি দপ্তরগুলোতে জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় শেষপর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে তাঁকে।

বেনিয়মের ফিরিস্তি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, পুরসভার এক নিম্নমান সহকারী বা লোয়ার ডিভিশন ক্লার্কের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ইছামতি নদীতে ভাসমান রেস্তোরাঁ তৈরির নামে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। পাশাপাশি, সোনার বাংলা হোটেলের জন্য সরকারি জমি মাত্র ১২০ টাকা বাৎসরিক লিজে দেওয়া এবং নামমাত্র মূল্যে ইটভাটার জন্য ৪ বিঘা জমি বরাদ্দের মতো বিষয়গুলোকেও দুর্নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রদ্যুৎ দাসের অভিযোগ, পুরপ্রধান ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং এর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের কাটমানি হাতিয়ে নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যতের প্রভাব

এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই প্রদ্যুৎ দাসকে বিভিন্নভাবে শাসানি, চোখ রাঙানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন তিনি। সোমবার বসিরহাটের মহকুমা শাসকের কাছে তিনি ই-মেইলে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপ টাকি পুরসভার অন্দরে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। মামলার রায় ও পরবর্তী তদন্তের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *