তিরিশেই থাবা বসাচ্ছে কোলেস্টেরল, তরুণ প্রজন্মের হার্ট বাঁচাতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে। একটা সময় মনে করা হতো কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের মতো সমস্যাগুলো কেবল বয়স্কদেরই হয়। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য ও গবেষণা সেই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে ৩০ বছর ছোঁয়ার আগেই বহু যুবক-যুবতী উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। বুকে ব্যথা, অল্পতেই ক্লান্তিবোধ কিংবা চরম দুর্বলতার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেই ধরা পড়ছে এই নীরব ঘাতক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হলো আধুনিক জীবনের যান্ত্রিকতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা, রান্নায় ডালডা বা সয়াবিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং চর্বিযুক্ত খাবার অল্প বয়সেই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাত জাগা, ধূমপান, মদ্যপান ও কর্মক্ষেত্রের তীব্র মানসিক চাপ। সঠিক সময়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কম বয়সেই হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
উদ্বেগের মধ্যেও আশার কথা হলো, অল্প বয়সে সচেতন হলে কোনো রকম ওষুধ ছাড়াই জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল পুরোপুরি বশে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকরা প্রধানত খাদ্যাভ্যাসে বদল আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোল্ড ড্রিংকস বাদ দিয়ে ওটস, শাকসবজি, ফলমূল এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও আখরোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রান্নার ক্ষেত্রে সয়াবিনের বদলে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অলস জীবনযাপন ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস অবিলম্বে বর্জন করতে হবে, কারণ এগুলো সরাসরি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে। এছাড়া মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং নিয়মিত যোগাসনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
পারিবারিক ইতিহাস ও নিয়মিত পরীক্ষা
কোলেস্টেরলের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে যাদের পরিবারে হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এই ধরনের পারিবারিক ধারা থাকলে বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা গেলে বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় সহজেই এড়ানো সম্ভব।