রামমন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা চুরি, চাঞ্চল্যকর গোপন অভিযানে উদ্ধার দেড় কোটি!

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের বিস্ফোরক অভিযোগের পর এক গোপন যৌথ অভিযানে নেমেছে মন্দির ট্রাস্ট ও পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর অভিযানে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মন্দিরের ৯ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও বেশ কয়েকজনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপ ও ট্রাস্টের গোপন তৎপরতা
গত রবিবার সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সামাজিক মাধ্যমে রামমন্দিরের কোটি কোটি টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ তুলে শোরগোল ফেলে দেন। তিনি একে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে আখ্যা দেন এবং দেশের আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এই রাজনৈতিক চাপ ও জনরোষের জেরে নড়েচড়ে বসে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্তে দিল্লি থেকে অযোধ্যায় এসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক করেন মন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র ও সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহের পরই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় এই গোপন অভিযান, যার ফলশ্রুতিতে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা।
সম্পত্তির পাহাড় ও চুরির নেপথ্য কারণ
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চুরির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। অভিযোগ, মন্দিরেরই কিছু অসাধু কর্মী ভক্তদের দানের টাকা হাতিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি, জমি ও বাড়ি কিনেছেন। ট্রাস্ট ও পুলিশ লক্ষ্য করে যে, কয়েকজন নির্দিষ্ট কর্মীর সম্পত্তি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, যারা হুইল চেয়ারে করে তীর্থযাত্রীদের মন্দিরে নিয়ে যেতেন, তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন এই টাকা পাচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বর্তমানে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াসহ অযোধ্যার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা সন্দেহভাজন কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এই রামমন্দির। ফলে সেখানে এ ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ভক্তদের মনে গভীর আঘাত হানতে পারে এবং ট্রাস্টের নির্ভরযোগ্যতাকে বড়সড় সংকটে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চুরির সমস্ত দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখে মূল চক্রীদের পুরোপুরি চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।