‘বিকৃত ইতিহাস’ মুছে বঙ্গে এবার জাতীয়তাবাদের পাঠ, শিক্ষার রাশ দুই সঙ্ঘ সৈনিকের হাতে!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনে সবচেয়ে বড় চমক মিলেছে শিক্ষাদপ্তরে। পূর্বতন জমানার বিতর্কিত ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষাদপ্তরকে দুই ভাগে ভাগ করে তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) দুই বিশ্বস্ত মুখ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং দীপক বর্মণের হাতে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সামলাবেন উচ্চশিক্ষা এবং দীপক বর্মণ পেয়েছেন স্কুল শিক্ষাদপ্তরের দায়িত্ব। এই রদবদলের হাত ধরে বাংলার শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে বড়সড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
পাঠ্যক্রম বদল ও জাতীয়তাবাদের রূপরেখা
শিক্ষা দপ্তরের এই সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক আদর্শগত রূপরেখা। সম্প্রতি স্কুল-পাঠ্য বইয়ে ভারতের গৌরবময় ইতিহাস বাদ দিয়ে বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছিল। দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে আসল ঐতিহ্য তুলে ধরতে বৈদিক যুগের মহারথী পাণিনি ও কালীদাসের অবদান এবং সনাতনী বিজ্ঞান-সংস্কৃতির ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন সময়ে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন। সঙ্ঘের দুই নেতার হাতে দপ্তরের দায়িত্ব আসায় সেই লক্ষ্যপূরণ এখন অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সরকারের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাষ্ট্রবাদকে সমর্থন করে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। তাই আগামী পাঁচ বছরে রাষ্ট্রবাদের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধার করাই হবে তাদের প্রধান কাজ।
দুর্নীতির অবসান ও কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্য
অতীতে শিক্ষাদপ্তরকে একত্রিত করা হলেও, একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ণ হয়েছিল এই বিভাগ। পূর্বতন মন্ত্রীদের জমানায় নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং আইনি জটিলতায় বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরিপ্রার্থীরা বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছিলেন। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বচ্ছতা ফেরানোই নতুন মন্ত্রীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাদপ্তরকে পুনরায় দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। আরএসএসের আদর্শে দীক্ষিত দুই মন্ত্রীর হাত ধরে একদিকে যেমন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে পাঠ্যক্রম থেকে বিতর্কিত অংশ বাদ দিয়ে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিকাশ ঘটতে চলেছে, যা বাংলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।