মৃতের ক্ষতিপূরণের টাকাতেও কাটমানি, গ্রেপ্তার তৃণমূলের দাপুটে পঞ্চায়েত প্রধান!

মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য বরাদ্দ আর্থিক সাহায্য থেকেও কাটমানি নেওয়ার চরম অমানবিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল পরিচালিত চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনুপ মেটে। বুধবার তাঁকে বুদবুদ থানার পুলিশ আদালতে পেশ করার সময় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ধৃত প্রধানকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
দুর্নীতির দীর্ঘ তালিকা ও ক্ষোভের কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত পঞ্চায়েত প্রধান অনুপ মেটের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিপত্য ও তোলাবাজি চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি এক মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য বরাদ্দ ২ লক্ষ টাকা সরকারি ক্ষতিপূরণের মধ্যে থেকে ১ লক্ষ টাকাই তিনি ‘কাটমানি’ হিসেবে ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়াও সরকারি পদের অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে বালি ব্যবসা চালানো এবং সরকারি আবাস প্রকল্পে ঘর বণ্টনে চরম অনিয়ম-সহ একাধিক আর্থিক দুর্নীতির সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই অভিযোগগুলি নতুন করে সামনে আসায় তদন্তে নামে বুদবুদ থানার পুলিশ এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, যারা বছরের পর বছর ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের টাকা লুট করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তবে থানা থেকে অনুপকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত সক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৃতের টাকা আত্মসাতের মতো চরম সংবেদনশীল দুর্নীতির অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয় স্তরে শাসক দলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আগামী দিনে এলাকায় বিরোধী দলগুলি তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করতে পারে, যার ফলে বুদবুদ ও গলসি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।