কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? জরুরি বৈঠক ডাকল হাইকম্যান্ড

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং দলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙনের মাঝেই জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন— তবে কি এবার সশরীরে কংগ্রেসে মিশে যেতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? এই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে ডাকা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের জরুরি বৈঠক। মাত্র একদিনের নোটিশে দিল্লির এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্জার জল্পনা ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহী শিবির যখন দাবি করছে যে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের পথে হাঁটছেন, ঠিক তখনই মমতার এই ‘শিকড়ে ফেরা’-র জল্পনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই মার্জার বা সংযুক্তিকরণের খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করতে এবং বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একজোট করতেই এই আলোচনা, এর সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
কংগ্রেসের অন্দরেও তৈরি হয়েছে দ্বিমত
কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্তিকরণের কথা এখনও স্বীকার করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, অতীতে বাংলায় কংগ্রেস ভেঙে যেভাবে তৃণমূল ক্ষমতা দখল করেছিল, সেই ইতিহাস ভুলে হুট করে মমতাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া নিচুতলার কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর চরম সংকটে পড়া তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ পথ হতে পারে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের এই জরুরি বৈঠক থেকে নতুন কোনো মোড় আসে কিনা, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।