ইরানে আমেরিকার ভয়াবহ বিমান হানা, পাল্টা হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

কলকাতা: ফের রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য। চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে এবার সরাসরি ইরানের মাটিতে ভয়াবহ সামরিক হামলা শুরু করল আমেরিকা। মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে কেঁপে উঠেছে ইরানের সিরিক ও মিনাব সহ একাধিক কৌশলগত এলাকা। আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা চরম পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে ইরান। দুই মহাশক্তিধর দেশের এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কার্যত কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভারতের মতো আমদানিকারী দেশগুলির।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ওভাল অফিসের নির্দেশ
এই বিধ্বংসী হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানকে চরম বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছিল, তেহরান যদি নিজেদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলিতে জোরাল সামরিক আঘাত হানা হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা শুরু করে।
হামলার পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “আমরা ওদের ওপর কঠোর আক্রমণ চালিয়েছি। আজ আরও ভয়াবহ আঘাত হানা হবে।” এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে তেহরানকে দ্রুত আমেরিকার শর্ত মেনে চুক্তি সই করার পরামর্শও দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “সেন্টকম আজ রাতে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবে।”
বিস্ফোরণে কাঁপছে ইরান, সক্রিয় এয়ার ডিফেন্স
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ‘ইরানের অযৌক্তিক ও ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই প্রত্যাঘাত।’ স্থানীয় সূত্র এবং ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং গোরগান সহ দক্ষিণ ইরানের একাধারে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মার্কিন যুদ্ধবিমান রুখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সক্রিয় করেছে ইরান।
পাল্টা চালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রোখার চেষ্টা তেহরানের
আমেরিকার এই বিধ্বংসী হামলার মুখে পড়ে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। তেহরানের সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়েছে, কোনো তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো দেশ বা জাহাজ জোরপূর্বক এই প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে তার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।
যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখনও বাণিজ্যিক জাহাজগুলি স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত করছে এবং পরিস্থিতি তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
উদ্বিগ্ন বিশ্ব অর্থনীতি
আমেরিকা ও ইরানের এই সরাসরি সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী মূলত বিশ্বের মোট উত্তোলিত খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণের প্রধান মাধ্যম। ফলে এই পথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে এবং জ্বালানির দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর বিশ্ব কূটনীতির।