‘বাংলাদেশকে কি পাকিস্তানের ছায়ায় ফেরানো হচ্ছে?’ দিল্লি থেকে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে হাসিনা

নয়াদিল্লি: “পাকিস্তান কি ১৯৭১-এর গণহত্যার জন্য ক্ষমা চেয়েছে? যদি না করে, তবে এত তাড়াহুড়ো করে সামরিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা কেন?”— দিল্লির নিরাপদ আশ্রয় থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নিয়ে এভাবেই তোপ দাগলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গণভবন ছাড়ার পর নিজের ক্ষোভ, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে কূটনীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।
বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিএনপি সরকার দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ইসলামাবাদের কাছাকাছি আসছে— রাজনৈতিক মহলের এই দাবিকে কার্যত মান্যতা দিয়ে হাসিনা বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা আর পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেওয়া দুটো এক বিষয় নয়।” তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করে পাকিস্তানপন্থী শক্তিকে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে আক্রমণ করে হাসিনা স্পষ্ট জানান, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যারা জামায়াতকে ঠেকাতে বিএনপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা ভুল করেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, “বিএনপি যদি মৌলবাদী শক্তিকে প্রশ্রয় নাই দেবে, তবে কেন মাজারে হামলা হচ্ছে? কেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী বা সংখ্যালঘুরা আজ বাংলাদেশে নিরাপদ নন?”
এদিকে, ভারতের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ‘নতুন ইনিংস’ শুরু করা এবং তাঁকে বিচারের জন্য ঢাকায় ফেরত পাঠানোর জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো। তিনি জানান, ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বর্তমান সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখতেই পারে, এতে তাঁর অবস্থান দুর্বল হচ্ছে না। কারণ তাঁর শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। তবে তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে ভারতের এই সুসম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করেন হাসিনা। তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা অতীতে ভারতের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল এবং প্রতিনিয়ত ভারত-বিরোধী অপপ্রচার চালায়, তাদের সঙ্গে ভারতের কোনো নতুন ইনিংসই টিকবে না।