তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ! শতাব্দী-কাকলির পর এবার মালা ও সায়নী? ঘাসফুল শিবিরে তীব্র ভাঙনের জল্পনা

তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ! শতাব্দী-কাকলির পর এবার মালা ও সায়নী? ঘাসফুল শিবিরে তীব্র ভাঙনের জল্পনা

কলকাতা: সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের তৎপরতা এবার চরম রূপ নিল। দিন দুয়েক আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে শতাব্দী রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক বড় অংশ বৈঠক করেছিলেন। এবার সেই ‘বিদ্রোহী’ ব্লকে একের পর এক হেভিওয়েট নাম জড়ানোয় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক মিলেছে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়কে ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং সদ্য নিযুক্ত মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী মালা রায়ও নাকি এখন বিদ্রোহী শিবিরে! এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের বহিষ্কৃত মুখপাত্র ঋজু দত্তের দাবি অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষও নাকি এই বিদ্রোহী শিবিরে সই করতে চলেছেন। পাশাপাশি আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও এই ব্লকে যোগ দিতে পারেন বলে জোরালো খবর।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিদ্রোহী সাংসদের প্রকৃত সংখ্যা কত এবং তারা দলত্যাগ বিরোধী আইন কীভাবে মোকাবিলা করবেন? বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে ২০ জনেরও বেশি সাংসদ রয়েছেন। দিল্লির বৈঠকে ১৬ জন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং আরও দু’জন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পত্রে সই করেছেন। ঋজু দত্তের দাবি সত্যি হলে, এই সংখ্যাটা ২২ থেকে ২৩-এ পৌঁছাতে পারে, যদিও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ সই করেছেন।

সংখ্যাধিক্যের কারণে এই বিদ্রোহীদের দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়ার (Disqualification) কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, লোকসভার স্পিকার খুব শীঘ্রই তৃণমূলের এই বিরোধী ব্লককে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন। অন্যদিকে, এই ঝড়ের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং মহুয়া মৈত্র। সব মিলিয়ে, দিল্লির বুকে তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ফাটল আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *