হৃদয়বিদারক ঘটনা! মা মারা গেছেন বোঝেনি শিশু, খিদের জ্বালায় ২৪ ঘণ্টা ধরে জাগানোর চেষ্টা!

গোণ্ডা (উত্তরপ্রদেশ): মা যে আর ইহজগতে নেই, তা বোঝার বয়সও হয়নি তার। তাই তীব্র খিদে আর তৃষ্ণা নিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টা মায়ের মৃতদেহের পাশেই বসে রইল ৭ বছরের শিশুটি। মা কখন ঘুম থেকে উঠবে, সেই আশায় বারবার ডেকে গেল সে। উত্তরপ্রদেশের গোণ্ডা জেলায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সমাজ ও সরকারি ব্যবস্থার অমানবিকতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
অযোধ্যা জেলার বাসিন্দা গীতা দেবী (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে যক্ষ্মা (TB) রোগে ভুগছিলেন। দু’বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁদের ছেড়ে চলে গিয়ে অন্য বিয়ে করেন। তারপর থেকে ৭ বছরের ছেলে অর্পিতকে নিয়েই ভাড়াবাড়িতে থাকতেন গীতা। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত্যু কী, তা জানা ছিল না ছোট্ট অর্পিতের। সে ভেবেছিল মা হয়তো ঘুমোচ্ছে। মাকে জাগানোর জন্য সে বারবার চেষ্টা করে, কিন্তু মা সাড়া না দেওয়ায় কেঁদে কেঁদে মায়ের লাশের পাশেই বসে থাকে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পান। কিন্তু অভিযোগ, অমানবিকতার চরম নিদর্শন দেখিয়ে কেউই সেই অনাথ শিশুটির সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।
এগিয়ে এল সামাজিক সংগঠন:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় একটি হিন্দু সমাজসেবী সংগঠনের কর্মীরা। খিদে আর আতঙ্কে কাঁপতে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে খাবার দেওয়া হয়। গীতা দেবীর কোনো আত্মীয়ের খোঁজ না মেলায় ওই সংগঠনের সদস্যরাই শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেন।
কাঁপানো হাতে মুখাগ্নি:
শ্মশানে যখন ৭ বছরের অর্পিত তার মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করছিল, তখন উপস্থিত সবার চোখ জলে ভিজে যায়। সমাজসেবীরা অর্পিতের হাত ধরে তাকে দিয়ে মায়ের মুখাগ্নি করান। কাঁপানো হাতে মায়ের চিতার আগুন ছোঁয়ানোর এই দৃশ্য দেখে শ্মশানে উপস্থিত কাউকেই চোখের জল ধরে রাখতে দেখা যায়নি।
শিশুর ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিল প্রশাসন:
মায়ের মৃত্যুর পর পুরোপুরি অনাথ হয়ে পড়া অর্পিতের ভবিষ্যতের জন্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) দ্বারস্থ হয় ওই সামাজিক সংগঠন। এরপরই মানবিকতার পরিচয় দিয়ে গোণ্ডা জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা নিরঞ্জন ঘোষণা করেন, অর্পিতের পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসন বহন করবে। আপাতত শিশুটিকে একটি সরকারি শিশু হোমে (Bal Shishu Griha) পাঠানো হয়েছে।