তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙন, রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ প্রকাশ চিক বরাইকের!

বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বড়সড় সংকটের মুখে পড়ল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে পদত্যাগ করলেন আলিপুরদুয়ারের হেভিওয়েট নেতা তথা রাজ্যসভা সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান তিনি। এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১০-এ এসে দাঁড়িয়েছে, যা দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
লোকসভায় বিদ্রোহের আঁচ
তৃণমূলের অস্বস্তি শুধু রাজ্যসভাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা লোকসভাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংসদীয় সূত্রের খবর, দলের প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ একটি আলাদা ব্লক তৈরির কথা ভাবছেন এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যসভার আরও তিনজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা চলছে। এই গণপদত্যাগ ও বিদ্রোহ বাস্তবায়িত হলে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
দিল্লিতে গভীর রাতের গোপন বৈঠক
পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় হিসেবে বুধবার গভীর রাতে দিল্লিতে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের প্রথম সারির চার মহিলা সাংসদ মালা রায়, সায়নী ঘোষ, মিতালী বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। পরপর হেভিওয়েট নেতাদের পদত্যাগ, উচ্চকক্ষে সদস্য সংখ্যা হ্রাস এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে দিল্লিতে এই ধরনের গোপন বৈঠক প্রমাণ করে যে দলের ওপর শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ আলগা হয়ে আসছে। সামগ্রিক এই ঘটনাপ্রবাহ তৃণমূল কংগ্রেসকে এক ঐতিহাসিক ভাঙনের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে।