অবশেষে মিটছে বকেয়া ডিএ, সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলনরত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এবার আশার আলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটেই সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র যে ৪২ শতাংশ ফারাক রয়েছে, তা ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বাজেটেই ডিএ ঘোষণা ও বেতন কমিশনের রূপরেখা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বকেয়া মেটানোর কাজে হাত দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী ডিএ কর্মচারীদের আইনি অধিকার এবং সেই মোতাবেক ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী ডিএ বকেয়া এবং পে কমিশনের টাকা ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছে, যার নীতিগত অনুমোদন গত মে মাসেই ক্যাবিনেট বৈঠকে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আইনি ও আর্থিক লড়াইয়ের স্থায়ী সমাধান হবে এবং কর্মীদের আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া পদক্ষেপ ও দুর্নীতি ফাঁস
সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও নজর দিয়েছে সরকার। পূর্বতন সরকারের প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করে প্রথম দিনেই প্রায় ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের ১২ পাতার আবেদনপত্র ও কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, পুরোনো প্রকল্পের ২.২ কোটি উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম ভোটার তালিকাতেই ছিল না এবং প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষ জালিয়াতি করে এই নারী-কল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। এই ধরনের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর, সরকারি কোষাগারের বিপুল আর্থিক অপচয় রুখতেই প্রশাসনের এই কড়া স্ক্রুটিনি অত্যন্ত কার্যকরী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।