রাজনৈতিক প্রতিবাদের নয়া অস্ত্র হয়ে উঠেছে ডিম, আর এরই মাঝে দাম বেড়ে সাড়ে ৭ টাকা!

রাজনৈতিক প্রতিবাদের নয়া অস্ত্র হয়ে উঠেছে ডিম, আর এরই মাঝে দাম বেড়ে সাড়ে ৭ টাকা!

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে ‘ডিম থেরাপি’ এক নতুন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উঠে এসেছে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও টাটকা, আবার কোথাও প্রতিবাদে ব্যবহারের জন্য পচা ডিমের চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যের দাম বাজারে একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগেও যে ডিম ৬ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন পৌঁছেছে সাড়ে ৭ টাকায়।

উৎপাদন খরচ ও পশুখাদ্যের চড়া দাম

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ডিমের দাম বাড়ার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বড় কারণ হলো উৎপাদন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারেশন এবং ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে পশুখাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন খোল, বাদাম, সূর্যমুখী ও তিলের খোলের মতো উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় পোলট্রি খামার মালিকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়েই উৎপাদকরা ডিমের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ

এদিকে গরমের কারণে এই সময়ে ডিমের আকার কিছুটা ছোট হয়ে আসায় ক্রেতাদের বেশি পরিমাণে ডিম কিনতে হচ্ছে। তার ওপর খুচরো বাজারে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের টান ফেলেছে। ৩০টি ডিমের একটি ট্রে আগে ১৭০-১৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজনৈতিক বিক্ষোভে ডিমের ব্যবহার স্থানীয়ভাবে চাহিদা কিছুটা বাড়ালেও, মূলত পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই রাজ্যজুড়ে ডিমের দাম এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। পোলট্রি শিল্পে লোকসানের আশঙ্কার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *