১৬ জুলাই শুরু মাহেন্দ্রক্ষণ, রথযাত্রা ও উল্টোরথের সম্পূর্ণ দিনক্ষণ!

১৬ জুলাই শুরু মাহেন্দ্রক্ষণ, রথযাত্রা ও উল্টোরথের সম্পূর্ণ দিনক্ষণ!

সনাতন ধর্মের অন্যতম বৃহত্তম উৎসব রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এখন সাজসাজ রব। পুরীর জগন্নাথ মন্দির, হুগলির মাহেশ, ইস্কনের বিভিন্ন মন্দির থেকে শুরু করে বহু বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালান—সব জায়গাতেই উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাত্রার এই মহাযাত্রা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে প্রতি বছরই প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।

স্নানযাত্রা থেকে নিভৃতবাস, উৎসবের পরম্পরা রথযাত্রার মূল আচার শুরু হয় স্নানযাত্রার মাধ্যমে। পুরাণ অনুযায়ী, ২৯ জুন মহাসমারোহে ১০৮ কলসের পবিত্র জলে দেবতাকে স্নান করানো হয়, যা তাঁর আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালিত হয়। এই দীর্ঘ স্নানের পর মহাপ্রভুর জ্বর আসে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকদিনের জন্য তিনি ‘অনবাসর’ বা নিভৃতবাসে চলে যান। এই নিভৃতবাসের প্রতীকী আচার শেষে আরোগ্যলাভ করে তিনি দাদা ও বোনের সঙ্গে রথে চেপে গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয় এবং অনিচ্ছাকৃত পাপ মোচনসহ জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।

দিনক্ষণ ও সামাজিক মিলনমেলা এ বছর ১৬ জুলাই রথযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে। সাত দিন গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থানের পর মহাপ্রভুর প্রত্যাবর্তনকে ‘উল্টোরথ’ বা পুনর্যাত্রা বলা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এই উৎসব গ্রামীণ জীবনে মেলা, যাত্রাপালা ও নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে তোলার মাধ্যমে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবেও বড় ভূমিকা পালন করে। এ বছর ২৯ জুন স্নানযাত্রা, ১৬ জুলাই রথযাত্রা এবং ২৪ জুলাই উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *