এআইয়ের ভুল তথ্যে বড় ধাক্কা গুগলের!

এআইয়ের ভুল তথ্যে বড় ধাক্কা গুগলের!

সার্চ ইঞ্জিনের দুনিয়ায় গুগল একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সংযোজন অনেক সময় ডেকে আনছে বড় ধরনের বিপত্তি। সম্প্রতি জার্মানির একটি আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে, গুগল এআইয়ের সামারিতে সরবরাহ করা ভুল তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে গুগ তাঁকেই নিতে হবে। মিউনিখের স্থানীয় আদালতের এই রায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে।

আইনি জটিলতা ও গুগলের প্রতিক্রিয়া

জার্মানির মিউনিখের দুটি প্রকাশনা সংস্থা গুগলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, গুগল এআইয়ের তৈরি সামারিতে তাদের বিরুদ্ধে নাম ভাঁড়ানো, সাবস্ক্রিপশনের ফাঁদ পাতা এবং সন্দেহজনক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মতো গুরুতর ও ভুয়া অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে জানায়, এআইয়ের দেওয়া ওই তথ্যগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই ধরনের ভিত্তিহীন ও ভুল তথ্য সরবরাহের আইনি দায়ভার গুগলকেই বহন করতে হবে।

এমন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গুগল জানিয়েছে, তাদের ‘এআই ওভারভিউ’ ফিচারটি ইন্টারনেটে সহজলভ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা সঠিক ফলাফল দেয়। তবে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের জন্যও তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

গুগল এআইয়ের ভুল তথ্য দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুগল এআইয়ের নানা ‘ভ্রান্তিবিলাস’-এর অসংখ্য উদাহরণ সামনে এসেছে। অনেক সময় যকৃতের (লিভার) গুরুতর সংক্রমণের মতো জটিল রোগেও পরীক্ষার ফলকে ‘স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যেই’ বলে দাবি করেছে এই এআই, যা রোগীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া নির্ভরযোগ্য কোনো মেডিকেল ওয়েবসাইটের বদলে ইউটিউবের ভিডিও থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ কোনো না কোনো তথ্যের জন্য গুগলের ওপর ভরসা রাখেন। ফলে এআই সামারির এই লাগামহীন ভুল তথ্য সাধারণ মানুষকে চরম বিভ্রান্তির মুখে ফেলছে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের যথার্থতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই ত্রুটিগুলো দ্রুত দূর করা না গেলে, আগামী দিনে প্রযুক্তি জায়ান্টটিকে আরও বড় আইনি ও আস্থার সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *