সীমান্তে তুমুল উত্তেজনা! পুশব্যাক রুখতে বাঁশ-লাঠি হাতে রাতভর পাহারায় ওপার বাংলার গ্রামবাসীরা

সীমান্ত এলাকা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতেই ওপার বাংলায় চরম শোরগোল পড়ে গেছে। ভারত থেকে কোনোভাবেই ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশকারী পাঠানো মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এই পরিস্থিতিতে কাঁটাতারের ওপারে সীমান্তজুড়ে নজিরবিহীন কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিজিবি জওয়ানদের পাশে লাঠি-বাঁশ হাতে রাতভর সীমান্ত পাহারায় নেমে পড়েছেন বাংলাদেশের সাধারণ গ্রামবাসীরাও। সীমান্তের ওপার থেকে অনবরত চলছে মাইকিং।
রাজ্যে সরকার বদলের পরপরই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোল্ডিং সেন্টারে বন্দি হওয়ার ভয়ে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর মিলছে। আর এই গণ-অনুপ্রবেশ রুখতেই নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার ওপারে বাংলাদেশের মেহেরপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা চরমে তোলা হয়েছে।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের তুঙ্গি, কাদিপুর ও মলুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা, যাঁদের কাঁটাতারের ওপারে জমি বা বাগান রয়েছে, তাঁরা চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তন্ময় হালদারের কথায়, “কাঁটাতারের ওপারে আমাদের লিচু বাগান। সেখানে গেলেই দেখা যাচ্ছে, ওপারে বিজিবি-র সাথে সাধারণ গ্রামবাসীরাও সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বাড়িগুলোর ছাদে উঠলেই দেখা যাচ্ছে হাতে মাইক নিয়ে তারা প্রচার চালাচ্ছে।”
এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই গত বুধবার জামালপুরের ধানুয়াকামালপুর সীমান্তে এক বৃদ্ধের পুশব্যাককে কেন্দ্র করে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়ায়। পরে অবশ্য জানা যায়, ওই বৃদ্ধ আসলে বাংলাদেশের রাজশাহীরই বাসিন্দা।
এদিকে, সীমান্ত নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়াতে ছাড়েনি বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি মুখপাত্র অমিত প্রামাণিক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “যাঁদের এ দেশের বৈধ নাগরিকত্ব নেই, তাঁদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতেই হবে। ভারত সরকার হোল্ডিং সেন্টার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে যাওয়ার ভয়ে যাঁরা পালাচ্ছেন, তাঁদের আটকাতে ওপার বাংলা নানা পরিকল্পনা করছে। তবে অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” সব মিলিয়ে এই পুশব্যাক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত জুড়েই এখন যুদ্ধের আবহ।