‘প্ল্যান সাকসেস, স্বামীকে শেষ করে দিয়েছি!’ খুনের পর প্রেমিকাকে ফোন প্রেমিকের

বীড (মহারাষ্ট্র): মহারাষ্ট্রের বীড জেলায় রাস্তার ধারে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। প্রথম দেখায় এটিকে একটি সাধারণ পথদুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এল এক হাড়হিম করা পরকীয়া ও খুনের ষড়যন্ত্র। স্বামীকে পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিকের সাথে হাত মিলিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুনের ছক কষেছিল স্ত্রী।
কয়েক দিন আগে রাস্তার ধারে একটি মোটরসাইকেলের নিচে কিরণ সোনাওয়ানে নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, ময়নাতদন্তের (Post-mortem) রিপোর্ট আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, কিরণ দুর্ঘটনায় মারা যাননি, বরং তাঁকে শ্বাসরোধ করে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
এর পরেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশি জেরায় ও টেকনিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে উঠে আসে কিরণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক দশরথ পরদেশীর নাম। জানা গেছে, প্রিয়াঙ্কা ও দশরথের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাঝে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কিরণ। সেই কারণেই স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দিতে প্রেমিকের সাথে মিলে খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে প্রিয়াঙ্কা। এই কাজে দশরথকে সাহায্য করে তার বন্ধু ধীরাজ ইয়েড়ে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে দশরথ ও ধীরাজ মিলে কিরণকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বাইকের নিচে তাঁর মৃতদেহ এমনভাবে রেখে পালিয়ে যায়, যাতে মনে হয় বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খুনের মিশন সফল হতেই দশরথ তার প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করে কোড ল্যাঙ্গুয়েজে বলে, ‘প্ল্যান ওকে’ (Plan OK)।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর পানভেল এলাকায় লুকিয়ে ছিল প্রিয়াঙ্কা, তার প্রেমিক দশরথ এবং বন্ধু ধীরাজ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে। তবে জেরায় ধৃতদের দাবি, কিরণ প্রায়ই তাঁর স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করতেন এবং সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতেই এই চরম পদক্ষেপ। মাত্র ৫ দিনের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই রহস্যময় খুনের কিনারা করে সব অপরাধীকে গারদের পেছনে পাঠাল পুলিশ।