মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে পুত্রবধূকে লাগাতার ধর্ষণ! ফোনে তিন তালাক দিয়ে বিপাকে স্বামী

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় নারী নির্যাতনের এক চরম ও মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কর্মসূত্রে স্বামী বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে তরুণীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরের বিরুদ্ধে। লউনউয়ের বাসিন্দা নির্যাতিতার বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর সুযোগ বুঝে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন বলে অভিযোগ। এমনকি দেশি পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো, যাতে তিনি ভয়ে মুখ না খোলেন। গত জানুয়ারি মাসে শেষবারের মতো এই নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়।
আইনগত পদক্ষেপ ও তিন তালাকের ঘটনা
অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরই তাঁর স্বামী ফোনে তাঁকে ‘তিন তালাক’ দেন, যা ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, এই নির্যাতন নিয়ে মুখ খোলায় শাশুড়ি, ননদ ও দেওর তাঁকে মারধর করে বলেও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, স্বামীর দাবি তরুণী অন্য সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তবে তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মুসলিম মহিলা বিবাহ অধিকার সুরক্ষা আইনে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর ও ননদ—পুরো পরিবারের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পারিবারিক অনুশাসনের অভাব, অন্ধ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারই এই ধরনের জঘন্য অপরাধের মূল কারণ। এর ফলে নির্যাতিতা তরুণী যেমন গভীর মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়েছেন, তেমনই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বেপরোয়া আচরণ তাদের আইনি বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং সমাজে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।