আসন সংরক্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, ১৫ জনের মৃত্যুতে থমথমে মোজাফফরাবাদ

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। রাজধানী মোজাফফরাবাদসহ গোটা অঞ্চলটিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া এই সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও মূল কারণ
আগামী ২৭ জুলাই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে ভারত থেকে যাওয়া কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য আইনসভার ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। স্থানীয় মূল বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে তীব্র আপত্তি জানান। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামক একটি সংগঠনের নেতৃত্বে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল সরাসরি পথে না নামলেও, একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এই প্রতিবাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে।
হঠাৎ করেই প্রায় দশ হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী মোজাফফরাবাদ অভিমুখে অভিযান শুরু করলে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। জনস্রোত সামলাতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপরই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়।
পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের জেরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের জনরোষ পাকিস্তান সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভাতেও পাক অধিকৃত অংশের জন্য আসন বরাদ্দ রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী সরকার এই অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করায়, সামগ্রিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।