চলন্ত ট্রেনে মোহন ভাগবতকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি, উত্তরপ্রদেশে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন!

উত্তরপ্রদেশে ফের নিশানায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেসে দিল্লি ফেরার পথে তাঁর কামরা লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি পাথর ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা সত্ত্বেও পরপর এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
চলন্ত ট্রেনে হামলা ও চাঞ্চল্য
রেলসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধে সাতটা কুড়ি মিনিট নাগাদ কানপুর থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ট্রেনটি ফিরোজাবাদ জেলার মাকখানপুর স্টেশন অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই সময়ই স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেসের ই-১ কোচটিকে নিশানা করে পাথরবৃষ্টি করা হয়। জোরালো আঘাতে কামরার জানলার কাচের বাইরের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত, ঘটনার সময় আরএসএস প্রধান আক্রান্ত জানলাটির ঠিক উল্টো দিকের আসনে বসেছিলেন। যার ফলে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন। নাশকতার আঁচ পেয়েই টুন্ডলা স্টেশনে ট্রেনটিকে জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হয়। ত্বরিত পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুরক্ষাবলয় নিয়ে প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগ
চলতি বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার উত্তরপ্রদেশের মাটিতে আরএসএস প্রধানের ট্রেন লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে লখনউ-দিল্লি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সি-৪ কোচেও একইভাবে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছিল। মোহন ভাগবতের মতো দেশের শীর্ষ স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া একজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বারবার এমন নিরাপত্তা ত্রুটি কীভাবে ঘটছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নিছক কোনো দুষ্কৃতীদের কাজ নাকি এর পেছনে পূর্বপরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বারবার ভিভিআইপিদের ট্রেনযাত্রাকে টার্গেট করার এই প্রবণতা রেলযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে রেলপথে কড়া নজরদারি, দুষ্কৃতী দমন অভিযান বৃদ্ধি এবং ভিভিআইপি মুভমেন্টের সময় রুট সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে প্রশাসন।