মুখ ঢাকলেই জুটবে লাল কার্ড, বিশ্বকাপে ফিফার নতুন ৬ নিয়মে তোলপাড়!

আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে চলা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ নিয়ে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ফিফা মোট ছয়টি বড়সড় নিয়ম পরিবর্তন করেছে। খেলার গতিশীলতা এবং মাঠের পরিবেশ উন্নত করার তাগিদেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
কড়া হাতে সময় নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত বিরতি
ম্যাচের সময় নষ্ট রোধ করতে এবং খেলার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এবারের বিশ্বকাপে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো বিরতির নিয়মে। প্রচলিত ৪৫ মিনিটের দুই অর্ধের মাঝে একটি বিরতির বদলে এবার মোট চারটি বিরতি থাকবে। প্রথমার্ধের ২২ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে অতিরিক্ত তিন মিনিটের বিরতি দেওয়া হবে, যা দলগুলোর কোচদের নতুন কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। এছাড়া থ্রো-ইন ও গোল-কিকের ক্ষেত্রে ৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল কাউন্টডাউন চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বল না ছুঁড়লে প্রতিপক্ষ দল সুবিধা পেয়ে যাবে। একইভাবে, খেলোয়াড় বদলের জন্য মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম হলে সংশ্লিষ্ট দলকে পরবর্তী ৬০ সেকেন্ড একজন খেলোয়াড় ছাড়াই খেলতে হবে। এই নিয়মগুলোর মূল কারণ হলো খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকৃত সময় নষ্ট করার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা।
শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া শাস্তি ও উন্নত ভিএআর
মাঠে খেলোয়াড়দের আচরণগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবার লাল কার্ডের নিয়মে অভাবনীয় কড়াকড়ি আনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে কিছু বলার সময় মুখ ঢাকলে কিংবা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছাড়লে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে হবে খেলোয়াড়দের। এমনকি দলের কর্মকর্তারা উস্কানি দিলে বা পুরো দল প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লেও লাল কার্ডের মতো কঠোর শাস্তি নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি, চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের মাঠেই চিকিৎসা নেওয়ার পর অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার নিয়ম করা হয়েছে, যাতে চোটের অজুহাতে খেলার গতি ব্যাহত না হয়। অন্যদিকে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে বল মাঠে প্রবেশ করার আগে হওয়া ফাউল, ভুল কর্নারের সিদ্ধান্ত বা বিতর্কিত দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
এই নতুন নিয়মগুলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত অনেক রীতিকেই বদলে দেবে। একদিকে যেমন সময় নষ্টের সুযোগ কমে যাওয়ায় দর্শকরা আরও গতিশীল ম্যাচ উপভোগ করবেন, অন্যদিকে কড়া শাস্তির ভয়ে মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেক বেশি পেশাদারিত্ব ও পরিচ্ছন্ন আচরণ দেখা যাবে। সব মিলিয়ে একটি নিখুঁত, স্বচ্ছ এবং বিতর্কমুক্ত বিশ্বকাপ উপহার দেওয়াই ফিফার এই নতুন নির্দেশিকাগুলোর মূল লক্ষ্য।