পাঁচ বছর ধরে অন্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ভোগ! চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির হদিশ

একবার কিংবা দুবার নয়, একটানা পাঁচ বছর ধরে এক কলেজ ছাত্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা। প্রাপক নিজে না জানলেও, সেই টাকা তুলে দিব্যি খরচ করেছেন ওই পড়ুয়া। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল পুরো ঘটনা?
হরিশ্চন্দ্রপুরের হরদমনগর এলাকার বাসিন্দা মিতালি দাস ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন এবং প্রশাসন তাঁর নথিপত্র যাচাই করে তাঁকে যোগ্য উপভোক্তা হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু দীর্ঘদিন নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় তিনি ধন্দে ছিলেন। কাজের সূত্রে তিনি বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সেভাবে খোঁজখবর নিতে পারেননি। সম্প্রতি ভোট দেওয়ার জন্য নিজ রাজ্যে ফিরে তিনি বিডিও অফিসে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তখনই তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা গত পাঁচ বছর ধরে জমা হচ্ছে পাশের বেলশুর গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন নামক এক কলেজ ছাত্রের অ্যাকাউন্টে। এরপরই তিনি দোষীর শাস্তির দাবিতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নথিভুক্তকরণের সময় কোনো বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা তথ্য বিভ্রাট (ডেটা মিসম্যাচ) ঘটেছিল, যার ফলেই এই বিপত্তি। তবে নেপথ্যে কোনো প্রতারণা চক্র কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা স্বীকার করলেও, এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্র মোবারক। বর্তমানে বিপাকে পড়ে তিনি সমস্ত সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলছেন। এই ধরনের ঘটনা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের স্বচ্ছতার ওপর প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।