বর্ষায় জল জমলেই অ্যাকশন! কলকাতার এই ১২ ‘ব্ল্যাক স্পটে’ বসছে হাই-পাওয়ার পাম্প, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বর্ষায় জল জমলেই অ্যাকশন! কলকাতার এই ১২ ‘ব্ল্যাক স্পটে’ বসছে হাই-পাওয়ার পাম্প, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: রাজ্যে বর্ষা ঢোকার কাউন্টডাউন শুরু। আর বর্ষা মানেই কলকাতাবাসীর বুকে চেপে বসে জলজমার চেনা আতঙ্ক। তবে এবার ভারী বৃষ্টির পর শহরের রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যাওয়ার পুরনো ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা পুরসভা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরবোর্ড ভেঙে এখন প্রশাসকের হাতেই শহরের দায়িত্ব। ফলে বর্ষার মরশুমে শহরকে জলমুক্ত রাখা প্রশাসনের কাছে এক মস্ত বড় পরীক্ষা।

এদিকে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কড়া নির্দেশ, বর্ষাকালে নিকাশি নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে জলজমার কারণে ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

চিহ্নিত ১২টি ‘ব্ল্যাক স্পট’

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শহরের যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি জল জমে, সেগুলিকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুরসভা। এই তালিকায় রয়েছে:

  • উত্তর ও মধ্য কলকাতা: ঠনঠনিয়া, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট।
  • দক্ষিণ ও পূর্ব কলকাতা: তপসিয়া, তিলজলা, পার্ক স্ট্রিট, ভবানীপুর, চেতলা, গল্ফ গার্ডেন, নাকতলা এবং বেহালার একাধিক এলাকা।

পুরসভার মাস্টারপ্ল্যান:

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। এই ১২টি এলাকায় দ্রুত জল নামানোর জন্য অতিরিক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেনেজ পাম্প বসানোর মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই দক্ষিণ কলকাতার বেহালার শরৎ সদনে এই নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন পুর-প্রশাসক।

পাশাপাশি, শহরের প্রধান খাল এবং ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনগুলির সংযোগপথ যাতে পলি বা আবর্জনায় আটকে না যায়, তার জন্য রাজ্য সেচ দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। শুধু জলজমাই নয়, বর্ষায় ডেঙ্গির প্রকোপ রুখতে শহরের পরিত্যক্ত বাড়ি ও ফাঁকা জমি পরিষ্কার করার কাজও শুরু হয়েছে। পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পর যত দ্রুত সম্ভব জল সরানোর জন্য কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি আপৎকালীন কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *