লাইব্রেরি থেকে সরছে মমতার ‘এপাং ওপাং ঝপাং’! জায়গা পাচ্ছে শিবাজি-রানাপ্রতাপের জীবনী

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারগুলি থেকে এবার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সমস্ত বই। যার মধ্যে রয়েছে বহু চর্চিত ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর মতো বইও। শুক্রবার স্পষ্ট ভাষায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বর্তমান গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “যে সমস্ত বই পড়লে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার বিকাশ ঘটবে, সেগুলিই শুধু গ্রন্থাগারে থাকবে। অপ্রয়োজনীয় বই রেখে জায়গা নষ্ট করা হবে না।”
শিশুমনের বিকাশ ঘটে না এমন বই থাকবে না:
গ্রন্থাগার মন্ত্রী জানান, মানুষ জ্ঞানার্জনের জন্য লাইব্রেরিতে যান। তাই যে বই পড়লে জ্ঞানার্জন সম্ভব এবং শিশুমনের বিকাশ ঘটে, কেবল সেগুলিই রাখা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং স্বামী বিবেকানন্দের বই থাকবে। এছাড়া ছত্রপতি শিবাজি ও রানা প্রতাপের জীবনী থাকবে গ্রন্থাগারে। কিন্তু ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর মতো বই সরিয়ে দেওয়া হবে।”
ফিরে দেখা বিগত বছরের সিদ্ধান্ত:
উল্লেখ্য, ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন মাসে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের নির্দেশে রাজ্যের স্কুলগুলির গ্রন্থাগারের জন্য ৫১৫টি বইয়ের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা। এই বই কেনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিকে প্রতি স্কুল পিছু ১ লক্ষ টাকা করে অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছিল। সরকার বদলাতেই এবার সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি উল্টে গেল।
বিতর্কে ‘এপাং ওপাং ঝপাং’:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই ছড়াটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম চর্চা হয়নি। রাজনৈতিক মঞ্চে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক বিজেপি নেতা এই শব্দবন্ধ তুলে ধরে বারবার তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ করেছেন। ২০২২ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পান, তখনও এই ‘অর্থহীন কবিতা’ বা Nonsense Poem নিয়ে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এবার সেই সমস্ত বই লাইব্রেরি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল বর্তমান রাজ্য সরকার।